দাস বংশ (গোলাম বংশ/মামলুক বংশ) (1206-1290 খ্রিস্টাব্দ)
ঐতিহাসিক পটভূমি ও প্রতিষ্ঠা
দিল্লি সুলতানাতের প্রথম রাজবংশ ছিল দাস বংশ (যাকে গোলাম বংশ বা মামলুক বংশও বলা হয়)। এই বংশের শাসনকাল 1206 থেকে 1290 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
প্রতিষ্ঠাতা:
কুতুবুদ্দিন আইবেক (মুহাম্মদ ঘুরির সেনাপতি) 1206 খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে বসেন।
ইলতুতমিশ (আইবেকের জামাতা) ছিলেন প্রকৃত সুলতানাতের সংগঠক।
গুরুত্বপূর্ণ সুলতান ও তাদের অবদান
১. কুতুবুদ্দিন আইবেক (1206-1210 খ্রিস্টাব্দ)
উপাধি: লাখ-বখ্শ (লক্ষাধিক দাতা)।
অবদান:
কুতুব মিনার-এর নির্মাণ শুরু করেন।
লাহোর ও দিল্লিকে রাজধানী করেন।
গজনভি প্রশাসনিক কাঠামো অনুসরণ করেন।
২. ইলতুতমিশ (1211-1236 খ্রিস্টাব্দ)
প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে বিবেচিত।
অবদান:
দিল্লিকে স্থায়ী রাজধানী করেন।
ইকতা ব্যবস্থা চালু করেন (সামরিক কর্মচারীদের জমি বরাদ্দ)।
চাঁদি ও তামার মুদ্রা প্রবর্তন করেন।
তুর্কি অভিজাতদের দল (চিহালগানি) গঠন করেন।
৩. রাজিয়া সুলতানা (1236-1240 খ্রিস্টাব্দ)
দিল্লি সুলতানাতের প্রথম ও একমাত্র মহিলা শাসক।
অবদান:
পুরুষদের মতো পোশাক পরতেন ও প্রকাশ্যে রাজকার্য পরিচালনা করতেন।
তুর্কি আমিরদের বিরোধিতার কারণে ক্ষমতাচ্যুত হন।
৪. গিয়াসউদ্দিন বালবন (1266-1287 খ্রিস্টাব্দ)
উপাধি: জিল্লে-ই-ইলাহি (ঈশ্বরের ছায়া)।
অবদান:
রক্ত ও লৌহ নীতি প্রয়োগ করে শাসন শক্তিশালী করেন।
মঙ্গোল আক্রমণ (চেঙ্গিজ খানের বাহিনী) প্রতিহত করেন।
রাজকীয় মর্যাদাবোধ জোরদার করেন (সিজদা ও পাবোস প্রথা)।
প্রশাসনিক কাঠামো
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| কেন্দ্রীয় শাসন | সুলতান সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর |
| ইকতা ব্যবস্থা | সামরিক কর্মকর্তাদের জমি বরাদ্দ |
| সেনাবাহিনী | তুর্কি, পারসিক ও স্থানীয় সৈন্য |
| বিচার ব্যবস্থা | ইসলামিক আইন (শরিয়া) ও কানুন-ই-সুলতানি |
স্থাপত্য ও সংস্কৃতি
কুতুব মিনার (ইলতুতমিশ সম্পূর্ণ করেন)।
কুওয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ (দিল্লির প্রথম মসজিদ)।
ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্য-এর সূচনা।
পতনের কারণ
দুর্বল উত্তরাধিকারী: ইলতুতমিশের পর দুর্বল শাসক।
তুর্কি আমিরদের ষড়যন্ত্র: অভিজাতরা প্রায়ই বিদ্রোহ করত।
মঙ্গোল আক্রমণ: উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে চাপ।
খিলজি বিদ্রোহ: 1290 খ্রিস্টাব্দে জালালউদ্দিন খিলজি ক্ষমতা দখল করেন।
দ্রুত সংশোধনী
✔ প্রতিষ্ঠাতা: কুতুবুদ্দিন আইবেক (1206)।
✔ প্রকৃত সংগঠক: ইলতুতমিশ।
✔ প্রথম মহিলা শাসক: রাজিয়া সুলতানা।
✔ শক্তিশালী সুলতান: বালবন (রক্ত ও লৌহ নীতি)।
✔ ইকতা ব্যবস্থা: সামরিক বাহিনীকে জমি দান।
